প্রিয় ফেসবুক ভিউয়ার্স এবং আমার প্রাণপ্রিয় ঢালারচর ইউনিয়ন বাসী। সবাইকে জানাই সালাম আসসালামু আলাইকুম।
গত দুই-তিন দিন যাবত আমাকে এবং আমার শ্রদ্ধেয় বাবা কে নিয়ে, আমার ছোট ভাইয়ের বয়সী, আমার ছেলের বয়সী এবং আমার নাতির বয়সী কিছু মানুষ কুৎসা রটাচ্ছে।
প্রিয় এলাকাবাসী আপনারা আমাকে এবং আমার বাবাকে খুব ভালোমতোই চেনেন এবং জানেন। রাজনৈতিক ইতিহাস বলতে গেলে অনেক কিছুই বলতে হয় শুধু সংক্ষেপে এতোটুকুই বলি আজ যারা ঢালারচর ইউনিয়নের বড় আওয়ামীলীগার হয়েছেন। তাদের রাজনীতির হাতেখড়ি আমার বাপ-চাচাদের হাতে। আমার বাপ চাচারাই তাকে ঢালারচরের রাজনীতিতে পদার্পণ করিয়েছিলেন। আর যারা আমাদের চরিত্র সম্পর্কে কালিমা লেপন করছে তাদের চরিত্র সম্পর্কে আপনারা সবাই খুব ভালোমতোই অবগত আছেন। কার ঘরে কয়টা বউ আছে বা ছিল এই হিসাবটা আপনাদের হাতেই ছেড়ে দিলাম।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৯১সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসল তখন তো ঢালারচর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মশাল জ্বালানোর মতো আমরা ছাড়া কেউ ছিলনা। আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে বিএনপি'র বিজয় মিছিলে স্লোগান দিচ্ছিল নাছির-মস্ত দুই ভাই এক দড়িতে ফাঁসি চাই। সেই মিছিল আমরা কয়েকজন মিলেই প্রতিহত করেছিলাম। সেই সময় আওয়ামীলীগের টিপ টিপ বাতিটা আমরা হাতে গোনা কয়েকটা ফ্যামিলির মানুষ মিলে জ্বালিয়ে রেখেছিলাম। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলো অনেক সুবিধাবাদ মানুষ তখন আওয়ামীলীগে ভিড় জমাতে শুরু করলো। একটু বলে রাখি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আওয়ামীলীগের গণসমাবেশে আমার নেতৃত্বেই সবচেয়ে বড় মিছিল সেদিন এসেছিল। এরপর ১৯৯৮ সালের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।আ'লীগের প্রার্থীই জয়ী হলো।এই প্রার্থী জয়ী করতে গিয়ে অনেক বড় ঝর সেদিন আমার উপর দিয়েই গিয়েছিল। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো তখনকার সেই শুষ্ক মাঠে আমাদের ফ্যামিলিই টিকে ছিল। আমার দোকান ঘর ভাঙচুর করল, আমার ছোট ভাইকে খুব মার পিট করল। কই সেদিন তো বড় বড় আওয়ামীলীগ দাবিদারদের খুঁজে পাওয়া গেল না। আমার বাবা তখন ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি সেই সময় যত মিছিল-মিটিং সব জায়গাতেই সেদিন আমার বাবাই উপস্থিত ছিল আর সাথে ছিলাম আমি নাছির। বাবার সাথে আমার নামেও মামলা হল। তার পরও সেই সময় আমি এবং বাবা এলাকা ছেড়ে পালাইনি। অনেকেই ভয়ে এলাকা ছেড়ে রংপুর গিয়ে রংমিস্ত্রি করত। ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যত দুর্দিন গেছে সব আমার বাবার মাথা উপর দিয়েই গেছে। আর সুদিন ফিরলেই আওয়ামীলীগারের অভাব হয় নাই। আমার বাবাকে নিয়ে লেখার আগে, নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে দেখো। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা কিনা তার প্রমাণ ওয়েব সাইট দেখে এসো, যাচাই বাছাই ছাড়া কারো নাম ওয়েবে ওঠেনা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলো আর পাবনা-২, বাসী মন্ত্রী পেল। আমার সততা স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ছিল বলেই মন্ত্রী মহোদয় আমাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ( এখানে একটু বলে রাখি, আমার সততা,স্বচ্ছতা ছিল বলেই সমতা তে চাকরি কালীন বিষ্ণুপুর ঘুঘুদার বিলে সমতার হাজার হাজার কর্মীর মধ্য থেকে আমাকে দুই দুইবার পুরস্কৃত করেছিলেন)।ঢালারচর কে আধুনিক ঢালারচর করার পেছনে, ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে কে কাজ করেছে সেটা এলাকাবাসী ভালোই জানে। আর এর পরের ইতিহাস তো সবারই জানা।
যাইহোক ইতিহাসের পেছনে অনেক ইতিহাস আছে। আর আওয়ামীলীগ কারো বাপ-দাদার সম্পত্তি না যে চাইলেই সব সময় সবকিছু করা যায়।
অনেক হুমকি-ধামকি আপনারা ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছেন, যা কিনা হাঁটুর বয়সী কিছু ছেলেদের দিয়ে করানো হচ্ছে (মাঝে মাঝে আমার মোবাইলেও কল দিয়ে বলে তোকে মেরে ফেলবো,কন্ঠগুলো বড় মানুষের )। বাস্তবতা হল পারিবারিক শিক্ষা। কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় হয়তো পরিবার থেকে শেখানো হয় নাই।
সবশেষে এতটুকুই বলি, তারা চায় আমি ঢালারচর থেকে সরে যাই এতে তাদের মাঠ মুক্ত হয়ে যাবে। যেমন নীলনকশা করে ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ থেকে আমাকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রিয় ঢালারচর ইউনিয়ন বাসী আপনাদের দোয়া ভালোবাসা নিয়েই আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আসুক যত বাধা, দেখাক যত ভয়, ইনশাল্লাহ
সততার একদিন হবেই হবে জয় ।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
মোঃ নাছির উদ্দিন ব্যাপারী
সাবেক সাধারণ-সম্পাদক
ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ।
copy

No comments:
Post a Comment