মাতুব্বর সুজন:- শনিবার(১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বেড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিঅ্যান্ডবি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুল বাতেনের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলাল। এ সময় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুর রশিদ দুলাল জানান, বেড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের মৃত্যুতে শূন্য আসনে শুক্রবার জাতসাখিনী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুকে মনোনয়ন দেয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলের মনোনয়ন বোর্ড।
তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রাপ্ত বাবুকে নিয়ে আমরা শনিবার বিকেলে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে আসি। সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় হাজারো জনতা কাজিরহাট ঘটে দলের প্রার্থীকে বরণ করে নেন। পরে একটি দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সদ্য প্রয়াত বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের কবরস্থান জিয়ারত করতে যান। এ সময় অতর্কিতভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু ও তার ভাই আব্দুল বাতেনের সমর্থক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ময়ছের ও চৌদ্দর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় সন্ত্রাসীরা রেজাউল হক বাবুর গাড়িসহ ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আলফু খান, বাধন শেখ, মিরাজ হোসেন, তারেক, আলী ড্রাইভার, জুলহাস, আওয়াল মাস্টার, মনছের মোল্লা, আজাদ মুন্সী, স্বাধীনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয় বাজারের লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুলাল আরো বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপির ভাই আব্দুল বাতেন নিজ অপকর্মের কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বেড়া পৌর মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। বিষয়টির জন্য টুকু সাহেব অকারণেই আমাদের দায়ী করছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনকে তার নিজের মতো করে ব্যবহার করছেন। আজকের হামলার সময়ও পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। আমরা বেড়া থানা পুলিশের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের সরিয়ে নেয়ার দাবি করছি।
বেড়া উপজেলা পরিষদ উপ-নর্বচনে সদ্য মনোনয়ন প্রাপ্ত রেজাউল হক বাবু বলেন, বড় দল হিসেবে দলের অভ্যন্তরে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে। কিন্তু সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমন হামলা মেনে নেওয়া যায় না। এ হামলার বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে বেড়া সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার শেখ জিল্লুর রহমান ঘটনার সতস্যতা স্বীকার করে বলেন, সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজনের ওপর কতিপয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। আর কয়েকটি বিস্ফোরণর ঘটনাও ঘটেছে। প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রভাবশালী কারো দ্বারা পুলিশ প্রভাবিত নয়। অভিযোগের সত্যতা পেলে যে কারো বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর সঙ্গে কথা বলতে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।